1. admin@bangladeshbarta71.com : admin :
শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

বাংলাদেশ বার্তা ৭১
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
  • ৯৭ বার পঠিত

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৬ মার্চ বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন।  বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিন রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিখে অস্ত্র নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেফতার হবেন এমনটা বুঝেই দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে মুক্তিকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৫ মার্চের কালরাতের সে ভয়াবহ ঘটনা বাঙালিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা যোগায়।

সর্বস্তরের নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থানেই থাকুন, যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করুন। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান। দলের নেতৃবৃন্দ নিরাপদস্থান বুঝে নিয়েই ওই রাতেই কাছাকাছি কলকাতা ও আগরতলা গিয়ে ওঠেন। শুরু করেন অস্ত্র সংগ্রহ, মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটমেন্ট, প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি। এসব করতে প্রবাসী সরকার গঠন করার তাগিদ অনুভব করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় তদানীন্তন মহকুমা শহর মেহেরপুরকে বেছে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠন করেন। শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালি নিধনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল একাত্তরের মার্চের শুরুতেই, জুলফিকার আলী ভুট্টোর বাড়ি পাকিস্তানের লারকানায়। শিকারের নামে এই গণহত্যার ষড়যন্ত্রে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে জুলফিকার আলী ভুট্টো, জেনারেল ইয়াহিয়া এবং জেনারেল হামিদ অন্যতম। তাঁরা মনে করেছিলেন, ২০হাজার মানুষ হত্যা করলেই ভয় পাবে বাঙালিরা, স্বাধীনতা এবং স্বাধীকারের কথা আর বলবে না। ২৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগের পর পাকিস্তান পৌঁছানোর আগেই ঢাকায় গণহত্যা শরু হয়। আর সেই রাতেই গ্রেফতার করা হয় বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পাকিস্তানি মেজর বিলাল বঙ্গবন্ধু ভবনের দোতলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। তারা বঙ্গবন্ধুকে ট্যাংক-কামানসহ কড়া পাহারায় শেরেবাংলা নগরের সামরিক সদর দপ্তরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নেয়া হয় ক্যান্টনমেন্টের সেনাবাহিনীর অফিসার্স মেসে।

টিক্কা খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকেই পরদিন নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। বঙ্গবন্ধুর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি চট্টগ্রামে নোঙর করা একটি বিদেশী জাহাজের সেটেও ধরা পড়ে। শুনতে পান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখার প্রধান মেজর সিদ্দিক সালিকও। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘোষণার খবরটি পাকিস্তান সরকার ও ইস্টার্ন জোনের সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।ভয়াল ‘কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া। ভয়াবহ এই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ রাতেই জগন্নাথ হল ও জহুরুল হক হলের অর্ধসহস্রাধিক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্যরা। ছাত্রী নিবাস রোকেয়া হলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং ছাত্রীরা আগুন থেকে বাঁচতে হলের বাইরে আসা শুরু করলে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

আনুমানিক ৩০০জন ছাত্রীকে সে রাতে হত্যা করা হয়। রাজারবাগে গ্যাসোলিন ছিটিয়ে আগুনে ভস্মীভূত করা হয় পুলিশ সদর দপ্তর। বাংলামায়ের ১১শ পুলিশ সন্তানের রক্ত ঝরিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, সমগ্র ব্যারাক গুঁড়িয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল সবকিছু।হায়েনাদের পৈশাচিক হানায় বাঙলার মানুষের চোখে জল। বুকে আগুন। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ তীব্র স্লোগান তুলে ট্যাংকের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। বাঙালী জাতি জীবনবাজি রেখে মরণপণ লড়াই-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

’৪৭-এ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্তির পর থেকেই উর্দু শাসকদের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির রক্ত সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে সেই ’৪৮ সাল থেকে শুরু করে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তদান সংগ্রাম- আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায়, ’৫৬-তে এসে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তিসনদ ঘোষণা, ৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিদায় এবং ’৭০-এ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায়ই এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং স্বপ্নের স্বাধীনতা।

১৯৭০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এ জগদ্বিখ্যাত ঘোষণার মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে যায়। দামাল ছেলেরা খুঁজে পায় গেরিলা যুদ্ধের গোপন কৌশল ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। সমগ্র জাতি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান বুকে ধারণ করে আত্মশক্তিতে বিশ্বাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিপাগল বাঙালির রক্তের বন্যায় ভেসে যায় পাকিস্তানের দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত দু’লক্ষাধিক হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’। প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয় এবং মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দান, রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক সমর্থন, সমগ্র মুক্তিকামী বিশ্ব ও জনতার অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধেই পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নেয় আরও একটি দেশপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর