1. admin@bangladeshbarta71.com : admin :
রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

মধুপুরে লেয়ার ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ গ্রামবাসি

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২
  • ১৯১ বার পঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুরের দক্ষিণ মহিষমারা গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা লেয়ার ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্যের দূর্গন্ধে অসহনীয় দূর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। বিষাক্ত বর্জ্য ছাড়াও বাতাসে ছড়ানো লেয়ার ফার্মের দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। পরিবেশ দূষণের ফলে পরিবার গুলোর স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে শিশুরা। বিষ্ঠার গন্ধের কারণে পোকামাকড় মশা মাছির উপদ্রপ বেড়ে যাওয়ায় খাবার খেতেও সমস্যা হচ্ছে পরিবার গুলোর। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত লেয়ার ফার্ম অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে  আলমগীর হোসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও নেওয়া হয়নি কার্যকরী কোন ব্যবস্থা।

ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম দক্ষিণ মহিষমারা। এলাকাটি স্থানীয় গারোবাজারের কাছে অবস্থিত হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় পরিনত হয়েছে। একই এলাকার মৃত বুজরত আলীর ছেলে আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি অপরিকল্পিতভাবে লেয়ার মুরগীর ফার্ম স্থাপন করেছে। অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা লেয়ার ফার্মের বর্জ্য চারদিকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এ আবাসিক এলাকায় বসবাস করা কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠেছে। লেয়ার পোল্ট্রির বিষ্ঠার দূর্গন্ধ শ্বাসকষ্টসহ স্বাস্থের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর হওয়া সত্যেও সব সময় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। মশা মাছির উপদ্রপের কারণে দিনের বেলায়ও অনেক সময় মশারি টানিয়ে খাবার খেতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর হোসেনের বসত ঘরের পাশেই অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে দুটি লেয়ার পোল্ট্রি ফার্ম। নেই বর্জ্য নিষ্কাসনের সঠিক ব্যবস্থা। আলমগীর হোসেনের বসত ঘরের পাশের গর্তে লেয়ারের সকল ময়লা ও বর্জ্য জমা হচ্ছে। বিষাক্ত দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রায় ৫বছর যাবৎ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে স্বাস্থ্যকর স্বাবাভিক পরিবেশে জীবন যাপনের আশায় মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান লেয়ার ফার্মটি পরিদর্শন করেন এবং ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে লেয়ার ফার্মটি স্থানান্তরের লিখিত সিদ্ধান্ধ দেন।

ঠিক একই ভাবে বিভিন্ন দপ্তর থেকে লেয়ার ফার্মটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও আবুল কাশেম এখনও বহাল তবিয়তে লেয়ার ফার্মটি চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফার্মের মালিক রহিম বাদশা বলেন, অনেকদিন আগে অনেকেই এসেছিলো ফার্ম সরাতে, তারা সময় দিয়ে গিয়েছিলো। আমি ফার্ম সরাইনি কারন? এ এলাকায় তো আরো ফার্ম আছে, সে গুলোতে কারো কোন সমস্যা না হলে আমারটায় কি সমস্যা? আমি আমার মত ফার্ম করেছি এতে কারো সমস্যা হলে আমার কিছু করার নেই।

এ বিষয়ে মহিষমারা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী আব্দুল মোতালেব অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনেক আগেই লেয়ার ফার্মটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, স্থানান্তর করা হয়েছে কি/না সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ ও ভেটেরিনারি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লেয়ার ফার্মটি স্থানান্তরের সময় দেওয়া হয়েছিলো, এখনো স্থানান্তর না করা হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন বলেন, প্রাণী সম্পদ ও ভেটেরিনারি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর