1. admin@bangladeshbarta71.com : admin :
শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

মধুপুর বনের ৭শ’ ৫৬ একর বনভূমি অবৈধ দখলে

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১১৭ বার পঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুর বন বিভাগের মহিষমারা বিটের বন ভূমি জবর দখল ও সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি অব্যাহত থাকায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। এ বিট এলাকায় সরকারী নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অনুমোদনহীনভাবে পাড়া মহল্লায় চলছে স’মিল। এসব মিলে দেদারছে চলছে কাঠ চিরাই।

প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমান ও মিলের যন্ত্রাংশ জব্দ করলেও দমানো যাচ্ছেনা স’মিল কারবারীদের। এতে বন্যপ্রাণীদের খাদ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে । ঐতিহ্য হারাচ্ছে লালমাটি মধুপুর গড়ের শালবন। ভূমি জবর দখলে মেতে উঠেছে স্থানীয় ভূমি খেকোরা। ভূমি খেকোদের লোলুপ দৃষ্টির কারণে সামাজিক বনায়নে চাষ করা হচ্ছে বাণিজ্যিক ভাবে আনারস, আদা, হলুদ কলাসহ নানা কৃষি ফসল। অপরদিকে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী বিট থাকায় স্থানীয় ও পাশর্^বর্তী জেলার সংঘবদ্ধ গাছ চোররা মাঝে মধ্যেই গাছ চুরি করে থাকে। ফলে সামাজিক বনায়নের অংশিদারিরা কাঙ্খিত লাভ হতে বঞ্চিত। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। ভূমি জবর দখল ও বসতবাড়ী নির্মাণে দালালদের সেলামী দিতে হয় বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ । স’মিল, জবর দখল উচ্ছেদ, গাছ চুরি বন্ধের জোর দাবি স্থানীয়দের।

মধুপুর রেঞ্জ সুত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল বন বিভাগের মহিষমারা ও চাড়ালজানি বিট মিলে মধুপুর রেঞ্জ। এই রেঞ্জের মহিষমারা বিটের ৭শ’৫৬ দশমিক ১২ একর বন ভূমি ১২শ’ ১৩ জন অবৈধ দখল করে আছে এবং চাড়ালজানি বিটে ২ হাজার ৩শ’ ৭৩ দশমিক ৬২ একর বন ভূমি ১৫শ’ ৩৭ জন ব্যক্তি অবৈধ দখল করে আছে। ইতিমধ্যে ১শ’ ৩দশমিক ৯০ একর বন ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৩হাজার ২৫ দশমিক ৮৪ একর বন ভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব বন ভূমি উদ্ধার করা হবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘাটাইল সীমান্ত থেকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ঘেষে মোটেরবাজার পর্যন্ত মহিষমারা বিট বিস্তৃত। স্থানীয় দালালরা বসতবাড়ির ঘর তৈরির খোঁজ রাখেন। নতুন ঘর ও বিল্ডিং এর কাজ শুরু করলেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। তাদের সাথে সমঝোতা রফাদফা করতে হয়। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় দালালরা এসব কাজ করছে। এভাবেই চলছে মাঝে মধ্যে গাছ চুরি জবর দখল ঘর তৈরির অর্থ লোপাটের ঘটনা। এসব তথ্য স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

আউশনারা কলেজ পাড়া ও হাজীপাড়া এলাকার খোরশেদ, জমসের ও মর্তূজ আলীর প্লট থেকে মোটের বাজারের ওমর ফারুক কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘোড়াগাড়িসহ স্থানীয়রা আটক করে। পরে বন বিভাগের লোক এসে আটককৃত গাছ মহিষমারা বিটে নিয়ে যায়। এভাবে শুধু খোরশেদ, জমসের মর্তূজ আলীর গাছই নয় তিনি রাতে আধাঁরে গাছ কেটে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ ব্যাপারে ওমর ফারুক জানান, তার কাছে খোরশেদ আসবাবপত্র তৈরির জন্য গাছ চেয়ে ছিলো তাই তার শ্রমিক দিয়ে তিনি গাছ কাটিয়েছেন। ওমর ফারুক দাবী করেন, তিনি এ বিটের ২০০৯-২০১০ সালের সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক বনায়ণ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থেকেও অবাধে গাছ কেটে সামাজিক বনায়ন উজার করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার দাপটে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। তার বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলাও রয়েছে।

মোটের বাজারের কলেজ রোডের ছামান আলী নামে এক ব্যক্তি কার্টিজ মুলে ক্রয় করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। শুধু ছামান আলী নয় মহিষমারা বিট এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল ভরাট এভাবেই জবর দখলকৃত ভূমিতে চলছে।
গত শনিবার মহিষমারা এলাকায় হামের বাজারের কাছে মহর আলীর সামাজিক বনায়নের প্লট থেকে কয়েকটি গাছ চুরি হয়। মহর আলীর স্ত্রী জানান, স্থানীয় সিএফডাবিøউ শামছুল হক গাছ কেটে নিয়েছে। শামছুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গাছ দুটি সামাজিক বনায়নের নয়। তাদের বাড়ির গাছ ক্রয়করে কেটেছি। এ ব্যাপারে মহিষমারা বিট কর্মকর্তা মো: মমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে প্লটে গিয়ে ছিলাম। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হবে।

এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী মহিষমারা বিট কর্মকর্তা আ: আওলাদ জানান, এখন আগের মত গাছ চুরি হয় না। গাছ চুরির সাথে সাথে আমরা মামলা দেই। তিনি বলেন, মোটের বাজার এলাকার গাছ চুরির ঘটনায় ওমর ফারুকের নামে মামলা হয়েছে। এখন সিএফডাবিøউওরা তাদেরকে সহযোগিতা করে থাকে। ঘর নির্মাণে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, মহিষমারা বিটে ৭৫৬.১২ একর ১২১৩ জন ও চাড়ালজানি বিটে ২৩৭৩.৬২ একর বন ভূমি ১৫৩৭ জন ব্যক্তি অবৈধ ভাবে দখল করে খাচ্ছে। এর মধ্যে ১০৩.৯০ একর বন ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখল থেকে বন ভূমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হবে। তিনি জানান, যারা দখল করে আছে প্রয়োজনে তাদেরকে সামাজিক বনায়নে অংশিদারী করা হবে। এতে তারা বনায়নে সুবিধা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর