1. admin@bangladeshbarta71.com : admin :
শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সহজ উপায়

বাংলাদেশ বার্তা ৭১
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৩৯ বার পঠিত
ডেঙ্গু জ্বর কী ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাচার উপায়

গোলাম মোস্তফা
করোনার কালো ছোবলে মানব জীবন যখন অতিষ্ট এরই মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভাবিয়ে তুলছে। প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে এ বছরের জানুয়ারী থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সাত হাজারের অধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গুও করোনার মত ভাইরাস জনিত রোগ যা সময়মত প্রতিরোধ করতে না পারলে ভয়ংকর মহামারিতে পরিনত হতে পারে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে কারো মৃধু কারো মাঝারী কারো আবার মারাতœক আকার ধারণ করে মৃত্যু ঘটতে পারে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তহলে জ¦র ,শরীর ব্যাথা, মাথা ও চোখের পিছনে ব্যাথা, হাড় ও মাংসপেশির ব্যাথাসহ অস্থি জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যাথা হতে পারে। এ ছাড়াও শরীরে ছোপ ছোপ দাগ হওয়া এবং রোগের কাঠিন্যতায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে পারে। তবে এ সকল লক্ষণ আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরোগ্য বা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
ডেঙ্গুর বিপদজনক লক্ষণগুলো শ^াস কষ্ট, পেট ব্যাথা, পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হওয়া, নাক চক্ষু ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়া, প্রচন্ড তাপমাত্রা, খিটখিটে মেজাজ, অসংলগ্ন কথা বলা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেশাব পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, রক্তের হেমাটোক্রিট ২০ শতাংশ কমে গিয়ে লিভার বড় হয়ে যাওয়া। তীব্র ডেঙ্গুতে অভ্যন্তরিন অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। রক্ত চাপ বা প্রেসার কমে যেতে পারে। ডেঙ্গুর জন্য নির্দিষ্ট কোন ওষধ এখনও আবিস্কার করা হয় নাই। তাই সব সময় সতর্ক থাকা জরুরী এবং রোগীর লক্ষণ নির্ভর ওষধ প্রয়োগ করতে হবে। এ সময় পুর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান, শরবত, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস ও সেলাইন খাওয়ানো যেতে পারে। শরীবে হিমোগøুবিন কমে গেলে সতর্কতার সাথে রক্ত ভরতে হবে।
মানবগাতি ডেঙ্গু মুলত মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কামড়েই এ রোগ সংক্রমিত হয়। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০০ মশা ২০ প্রকার রোগ ছড়ায়। এ প্রজাতির মধ্যে এডিস মশাই সবচেয়ে বেশী মানবগাতী যা ডেঙ্গু রোগের বাহক। এ এডিস মশা আবার দুই প্রকার হয়ে থাকে এডিস ইজিপ্ট ও এডিস আলবোপিকটাস। এ দু প্রকার মশাই ডেঙ্গু রোগের কারণ। শুধুমাত্র স্ত্রী এডিস মশাই রোগ বহন করে থাকে।
এডিস মশা সাধারণত পাত্রে জমে থাকা পরিস্কার পানিতে জন্মায়। এ বর্ষাক মৌসুমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা যায়। কীট তত্ববিদদের মতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১শত ২৩ প্রজাতির মশা পাওয়া যায়। শুধু ঢাকাতেই ১৪ প্রজাতির মশা রয়েছে।
চিকনগুনিয়া রোগও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম চিকনগুনিয়া ধরা পড়ে। এ রোগের লক্ষণও অনেকটা ডেঙ্গুর মতই। তবে মাথা ব্যাথা, বমিবমি ভাব, দুর্বলতা ও শরীরে র‌্যাশ অনেক বেশী।
মশাবাহিত এসকল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্কতা ও প্রতিরোধ মুলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারলে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, এনসেফালাইটিস, ফাইলেরিয়াসহ বিভিন্ন মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু নিয়ম ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার জন্য দায়ী এডিস মশা। এ মশা সকাল ও বিকাল বেলায় কামড়ায় তাই এ দু সময়ে ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখতে হবে। মশা প্রজননের কেন্দ্রস্থল ফুলের টপ, বাড়ীর ছাদ, পরিত্যাক্ত আসবাবপত্র ও প্লাস্টিক কন্টেইনারে যাতে তিন থেকে পাচদিনের বেশী পানি জমে না থাকে সে নজর রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে রাখতে হবে। মশা তাড়ানোর বিভিন্ন পণ্য যেমন মশার কয়েল, স্প্রে, লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর প্রয়োগনীতি অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় মশা বাহিত রোগাক্রান্ত এলাকায় মশা নিধন স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে মরনঘাতী এ সকল মশা বৈজ্ঞানিক পন্থায় উৎপাদন পদ্ধতিতে উবাকিয়া ও জেনেটিক্যাল মডিফায়েড মশার মাধ্যমেই দমন সম্ভব। উবাকিয়া হল একটি ব্যাকটেরিয়া যা ৬০ শতাংশ কীটের মাঝেই থাকে। কিন্তু এডিস মশাতে থাকেনা। তাই বৈজ্ঞানিক পন্থায় ডিমের মাধ্যমে উবাকিয়া এডিস মশাতে প্রয়োগ করতে পারলে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মত চারটি ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
অপরদিকে অক্সফোর্ড বিশ^ বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে ১৬ বছরের গবেষণার পর জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা বন্ধু মশার আবিস্কার করা সম্ভব হয়েছে। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলসহ অনেক রাষ্ট্রই এডিস মশা নিধনে সফলতা পেয়েছে। মুলত জিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে মশার কোষে জিন প্রবেশ করিয়ে এমন কিছু পুরুষ মশা জন্মানো হয় যারা স্ত্রী এডিস মশার সাথে মিলনে যে সকল মশা জন্ম নেয় তা বেশীক্ষণ বেে থাকতে পারেনা। আশার আলো হচ্ছে আমাদের দেশে এ বিষয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অক্সিটেকের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে ব্রাজিল, পানামা ও আইল্যান্ডের কোন কোন অঞ্চলে ৯০ শতাংশ এডিস মশা জেনে্্টক্যিাল মডিফায়েড বা বন্ধু মশার দ্বারা নিধন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানোর জন্য নিম পাতার তেলের সাথে সমপরিমান নারকেল তেল মিশিয়ে শরীরে লাগালে এলার্জি, ইনফেকশন ও মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জর্নাল অফ বায়োরিসোর্স গবেষণার মতে পুদিনার পাতা একগøাস পানিতে টেবিলে রেখে দিলে মশা দুর হয়ে যায়। নিশিন্দা ও নিম পাতার গুড়ো ধুলোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশা দুর হয়। থাইলেমন গøাসে রয়েছে ‘সাইট্রোনেলা ওয়েল’ যার সুগন্ধে মশা থাকতে পারেনা। তাই টপে থাইলেমন গøাস লাগালে উপকার পাওয়া যায়। মশা হলুদ আলো সহ্য করতে পারেনা তাই রুমে হলুদ আলোর লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। কর্পুরের গন্ধ মশা সহ্য করতে পারেনা বিধায় ৫০ গ্রাম কর্পুরের ট্যাবলেট একগøাস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে মশা দুর হবে। মশা কালো, নীল ও লাল রং এর প্রতি আকৃষ্ট হয় তাই এসব রং এড়িয়ে চলুন। সুগন্ধি ব্যবহার করুন মশা কম কামড়াবেু। রসুনের রস ঘরে ছিটালেও মশা ও পোকা মাকড় থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে প্রতি বছর শুধু মশার কারণেই সারা বিশে^ ৭০ কোটিরও বেশী মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ১০ লাখেরও বেশী মানুষ। চিকিৎসা বাবদ ব্যায় হাজার হাজার কোটি ডলার। এ অনাকাংখিত মৃত্যু ও ব্যায়ের হাত থেকে জাতী ও দেশকে রক্ষায় সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার সাথে সাথে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর